“কুর্সি নয়, লক্ষ্য দিল্লি!” — মমতার মন্তব্যে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে রেকর্ড ৯২.৯ শতাংশ ভোট পড়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। এই উচ্চ হারের ভোটদানকে বিজেপি পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দাবি করলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কলকাতার বউবাজারের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, “আমার কোনো পদের লোভ নেই, আমি চেয়ার চাই না।” তৃণমূল নেত্রীর এই ‘ত্যাগের’ বার্তার আড়ালে গভীর রাজনৈতিক কৌশলের গন্ধ পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
দিল্লির মসনদ দখলের লক্ষ্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তার একমাত্র লক্ষ্য এখন কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে অপসারিত করা। তিনি দাবি করেছেন, বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি দিল্লির রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চান। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানুষ এবার বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি একে নিজের লড়াইয়ের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন। তার এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, বাংলায় চতুর্থবার জয়ী হলে তিনি জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের প্রধান মুখ হয়ে উঠতে চান।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও আবেগের চাল
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কি তবে তার উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করছেন? ‘চেয়ার চাই না’ বলে তিনি একদিকে যেমন নিজেকে ক্ষমতার নির্লিপ্ত সেবক হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে ভোটারদের আবেগকেও স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের মাঝপথে এই ধরনের মন্তব্য ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। তবে এই বিশাল ভোটদান শাসকদলের বিরুদ্ধে কোনো সংকেত কি না, সেই প্রশ্নকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিরোধী শিবির।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার নির্বাচনে ১৫২টি আসনে রেকর্ড ৯২.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
- “আমার চেয়ারের মোহ নেই” বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্যাগের রাজনীতি ও জাতীয় লক্ষ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
- আগামী দিনে বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দিয়ে দিল্লি জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মসনদে বসানো বা জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ—উভয় সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে।