কিন্নররা টাকা চাইলে শুধু এই একটি কথা বলুন! নিমেষেই বদলে যাবে আপনার ভাগ্য

হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আশীর্বাদ এবং অভিশাপ নিয়ে সমাজে দীর্ঘদিনের নানা বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, তাদের সন্তুষ্ট করতে পারলে সংসারে শ্রীবৃদ্ধি ঘটে, আর অসন্তুষ্ট করলে নেমে আসে দুর্ভাগ্য। তবে কেবল অর্থ দান করলেই প্রকৃত আশীর্বাদ পাওয়া যায় না; বরং তাদের সঙ্গে ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করে এই দোয়ার কার্যকারিতা। সম্প্রতি ক্যাটরিনা নামের একজন হিজড়া সদস্য ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে আলাপে দোয়া বা আশীর্বাদের নেপথ্যের আসল গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
দোয়ার প্রকৃত অর্থ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
ক্যাটরিনার মতে, মানুষের নজর থেকে হিজড়াদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। তবে সমাজের এই বিশ্বাসকে পুঁজি করে অনেকে ছদ্মবেশে প্রতারণাও করছে, যা মূল হিজড়া সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। রেলে বা রাস্তায় টাকা চাওয়ার পর যে প্রথাগত ‘ভালো থেকো’ বলা হয়, সেটিকে তিনি প্রকৃত দোয়া মনে করেন না। তার ভাষায়, কোনো বস্তুর লোভে পড়ে দোয়া দেওয়া হয় না; বরং মানুষের ব্যবহার যখন মন ছুঁয়ে যায়, তখনই অন্তর থেকে আশীর্বাদ আসে।
সন্তোষ ও আন্তরিকতার প্রভাব
উত্সব বা শুভ অনুষ্ঠানে হিজড়াদের নাচ-গানের পর বিদায় দেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তারা মনে কষ্ট নিয়ে ফেরেন। ক্যাটরিনা সতর্ক করে জানান, কোনো হিজড়া যদি নাখোশ হয়ে ফেরেন, তবে তাদের দেওয়া আশীর্বাদ খুব একটা কাজে আসে না। দোয়া পাওয়ার মোক্ষম উপায় হলো তাদের মেহমানের মতো আপ্যায়ন করা। টাকা দেওয়ার সময় যদি বলা হয় যে, তাদের আসা বাড়িতে খুশির সংকেত এবং ঈশ্বর যেন তাদের বারবার পাঠান, তবেই তারা তৃপ্ত হন। এই আন্তরিক সম্মানটুকুই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এক ঝলকে
- হিজড়াদের প্রতি কেবল অর্থ নয়, বরং আন্তরিক ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রকৃত দোয়া পাওয়া সম্ভব।
- ছদ্মবেশী হিজড়াদের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ক্যাটরিনা।
- বিদায়বেলায় তাদের মন খারাপ থাকলে দোয়া বা আশীর্বাদ অকার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- হিজড়াদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ইতিবাচক কথা বলা সংসারে বরকত ধরে রাখার অন্যতম উপায়।