সমুদ্রে দাদাগিরি চলবে না! ভারতীয় জাহাজে ইরানের গুলির জবাব দিতে প্রস্তুত ইন্ডিয়ান নেভি

হোরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা ও ভারতীয় জাহাজে গোলাগুলির ঘটনায় আরব সাগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মাঝে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে নিজেদের ‘প্রাথমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত। সম্প্রতি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হাতে বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ হওয়া এবং ভারতীয় জাহাজে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণের ঘটনায় এই জলপথে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নৌবাহিনীর কৌশল ও নিরাপত্তা জোরদার
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল ডিকে ত্রিপাঠী ভারতের নতুন সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেছেন, যেখানে হোরমুজ প্রণালীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাতটি রণতরী বর্তমানে অবস্থান করছে। এই রণতরীগুলো আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদ জলসীমায় পৌঁছে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভারতের ১০টি জাহাজকে সফলভাবে এসকর্ট করে নিয়ে আসা হয়েছে।
আটকে পড়া নাবিক ও চলমান সংকট
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ভারতের মালিকানাধীন আরও ১৪টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। গত ১৮ এপ্রিল দুটি ভারতীয় জাহাজকে ইরানের বাহিনী গুলিবর্ষণ করে ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তাপ আরও বেড়েছে। এছাড়া ‘ইউফোরিয়া’ নামক একটি জাহাজসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা প্রায় ২২ জন ভারতীয় নাবিক বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠার মাঝে রয়েছেন। মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের এই লাইফলাইন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালীকে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলে ‘প্রাইমারি এরিয়া’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় সাতটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে নৌবাহিনী।
- ১৮ এপ্রিল দুটি ভারতীয় জাহাজে ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের পর ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
- তিনটি বিদেশি জাহাজে ইরানি হামলার ঘটনায় ২২ জন ভারতীয় নাবিক বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন।