“নিভতে চলেছে টিএমসি-র প্রদীপ, বাংলাজুড়ে পরিবর্তনের সুনামি!” — দমদমে হুঙ্কার মোদীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে রাজনৈতিক পারদ সপ্তমে চড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৪ এপ্রিল দমদম ও যাদবপুরের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এবার শুধু পরিবর্তনের হাওয়া নয়, বরং পরিবর্তনের সুনামি বইছে। গত ১৫ বছরের শাসনকালকে দুর্নীতি ও ভয় দেখানোর রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, প্রদীপ নেভার আগে যেমন বেশি করে জ্বলে ওঠে, তৃণমূলের বর্তমান অবস্থাও ঠিক তেমনই।
দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নিয়োগ দুর্নীতি, চিটফান্ড এবং কয়লা ও বালি পাচারসহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সাধারণ মানুষকে বাড়ি তৈরি করতে হলেও ‘প্রোটেকশন মানি’ দিতে হয়। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক স্লোগানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জনগণ বিজেপিকে আশীর্বাদ করলে তিনি তাঁদের এই সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতির হাত থেকে ‘আজাদী’ বা মুক্তি দেবেন। উন্নয়নকে তৃণমূলের ক্যাডাররা বন্দি করে রেখেছে বলেও তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন।
নারী সুরক্ষা ও মধ্যবিত্তের স্বার্থ
মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিষয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘মোদীর গ্যারান্টি’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, ৪ মে বিজেপি সরকার গঠনের পর নারীদের ওপর হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের ফাইল খোলা হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, মধ্যবিত্ত ভোটারদের টানতে তিনি আয়কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের খতিয়ান তুলে ধরেন। তাঁর মতে, তৃণমূল কেবল পরিবারতন্ত্র রক্ষায় ব্যস্ত, অন্যদিকে বিজেপি চায় বাংলার সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন।
ঐতিহাসিক ভোট ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানকে পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দাবি করেছেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিতেই বিজেপি জয়ী হবে এবং বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই মাটিরই কোনো সন্তান। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভয়মুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত।
এক ঝলকে
- দমদম ও যাদবপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে পতনের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- নিয়োগ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের আশীর্বাদ চাইলেন তিনি।
- ৪ মে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
- প্রথম দফার বিপুল ভোটদানকে তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা ও বিজেপির জয়ের আগাম বার্তা হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।