ট্রাম্পের ‘গুলি করার’ নির্দেশ: উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী, যুদ্ধে জড়ানোর হুঁশিয়ারি ইরানের!

হোরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন হোরমুজ প্রণালীতে ইরানের যেকোনো ছোট যুদ্ধযান দেখা মাত্রই তা ধ্বংস করার। এই নির্দেশের পর মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।
অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও নেতৃত্বের সংকট
ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বিভেদ নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক যৌথ বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানে কট্টরপন্থী বা নরমপন্থী বলে কিছু নেই বরং তারা সবাই একতাবদ্ধ ‘বিপ্লবী’। তবে পর্দার আড়ালে নেতৃত্বের সংকট কাটছে না। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতা মুজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে না আসায় ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি কার হাতে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটছে না।
জ্বালানি বাণিজ্যে ধস ও কূটনীতির চেষ্টা
উত্তেজনার জেরে হোরমুজ প্রণালী দিয়ে হওয়া স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রায় থমকে গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। এই অচলাবস্থার কারণে অনেক দেশই এখন গভীর জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানের পথ দেখা যায়নি।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালীতে ইরানি বোট ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- বিভেদ উড়িয়ে দিয়ে ইরানের সব রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের ‘বিপ্লবী’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।
- বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথটি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।