যাদবপুরকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা মোদীর, পাল্টা তোপে মমতা: ‘মেধাবী পড়ুয়াদের অপমান করছেন কেন?’

যাদবপুরকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা মোদীর, পাল্টা তোপে মমতা: ‘মেধাবী পড়ুয়াদের অপমান করছেন কেন?’

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বারুইপুরের নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যাদবপুর ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠনের বদলে প্রতিবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং অরাজকতা রুখতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ।

মেধার অপমানে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুরের ছাত্রদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কি এভাবেই আসাম্মান করা হবে? মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রের নিজস্ব র‍্যাঙ্কিংয়েও যাদবপুর বরাবর শীর্ষস্থানে থাকে। মেধাবী পড়ুয়াদের প্রতিবাদ করার অধিকারকে তিনি গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

পাল্টা আক্রমণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টাচাল হিসেবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মণিপুর পরিস্থিতি, কৃষক সমস্যা এবং বুলডোজার রাজনীতির মতো ইস্যুগুলো তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ছাত্রদের কণ্ঠস্বর রোধ করা নয়, বরং মানুষের অধিকার হরণ করাই প্রকৃত অরাজকতা। যাদবপুর আসনে এবার বিজেপির শর্বাণী মুখোপাধ্যায়, তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার এবং বামেদের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই চলছে। ভোটের মুখে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান সেই লড়াইয়ের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

এক ঝলকে

  • বারুইপুরের সভা থেকে যাদবপুর ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপের অভিযোগ আনেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
  • প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান।
  • যাদবপুরের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা অপমানজনক বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
  • নির্বাচনের মুখে এই বিতর্ক যাদবপুর কেন্দ্র তথা রাজ্যের শিক্ষা রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *