“গঙ্গায় ফটোশুট না করে যমুনায় ডুব দিন!” মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কলকাতায় এসে শুক্রবার ভোরে এক অন্যরূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গঙ্গার শান্ত স্রোতে নৌকাবিহারে মেতে ওঠার পাশাপাশি ভোরের কলকাতার সৌন্দর্য নিজের ক্যামেরায় বন্দি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই ভ্রমণকে বাংলার আত্মার সঙ্গে গঙ্গার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের মেলবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করলেও, বিষয়টিকে ‘ফটোশুট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গঙ্গার টানে প্রধানমন্ত্রী ও নৌকাবিহার
নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী এদিন হুগলি নদীর বুকে সময় কাটান। সামাজিক মাধ্যমে সেই মুহূর্তগুলো শেয়ার করে তিনি জানান, গঙ্গার পবিত্র স্রোতে ইতিহাসের অসংখ্য কাহিনি বয়ে চলেছে। মাঝিদের পরিশ্রম ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই নদীপথের নিবিড় যোগ দেখে তিনি মুগ্ধ। বারাণসীর আদলে কলকাতায় গঙ্গা করিডর তৈরির পরিকল্পনার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও মমতার পাল্টা তোপ
প্রধানমন্ত্রীর এই গঙ্গাবিহারকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে নিছক প্রচারের কৌশল হিসেবে দাবি করে বলেন, বাংলার গঙ্গা পরিষ্কার বলেই প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে ছবি তুলতে পারছেন। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি শাসিত দিল্লি সংলগ্ন যমুনা নদীর অবস্থা কেন এত বেহাল? প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর আহ্বান, পারলে যেন তিনি একবার যমুনার জলে ডুব দিয়ে আসেন।
প্রভাব ও নির্বাচনী সমীকরণ
ভোটের মুখে প্রধানমন্ত্রীর বেলুড় মঠে ধ্যান, ঝালমুড়ি খাওয়া কিংবা গঙ্গাবিহারের মতো কর্মসূচিগুলো মূলত বাংলার মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে যমুনার দূষণ বনাম গঙ্গার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মমতার পাল্টা যুক্তি নির্বাচনী লড়াইয়ে পরিবেশ ও উন্নয়নের ইস্যুকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই বাগযুদ্ধ জনমত গঠনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার ভোরে কলকাতার গঙ্গায় নৌকাবিহার ও আলোকচিত্র ধারণ করেন।
- গঙ্গার সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতির গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভক্তি নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- গঙ্গাবিহারকে ‘ফটোশুট’ বলে কটাক্ষ করে যমুনার দূষণ নিয়ে মোদীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জনসংযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।