খাবার নয় যেন বিষ! চায়ে রাসায়নিক আর পাম অয়েলের ‘নকল ঘি’, দেশজুড়ে বিশাল ভেজাল চক্রের পর্দাফাঁস

দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ চা, ঘি এবং ভোজ্য তেলের আড়ালে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ, আহমেদাবাদ, অযোধ্যা এবং আলিগড়সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করেছে পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ (FSDA)। অভিযানে দেখা গেছে, ব্যবহৃত চায়ের পাতা ও রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চা পাতা, আর পাম অয়েল ও ভেজিটেবল ফ্যাট দিয়ে বানানো হচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের নকল ঘি।
ব্র্যান্ডের আড়ালে নকলের রমরমা
আহমেদাবাদে ‘মঙ্গলমূর্তি গায় কা ঘি’ নামে বাজারজাত করা ৪০০ কেজি নকল ঘি জব্দ করেছে পুরসভা। কোনো লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই অবৈধভাবে পামোলিন তেল ও বনস্পতি দিয়ে এই ঘি তৈরি হচ্ছিল। অন্যদিকে, অযোধ্যায় নামী ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে ২,৯৮০ প্যাকেট নকল রিফাইন তেল বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক আইন লঙ্ঘনের দায়ে কারখানাগুলো সিল করে দেওয়া হয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যের রিব্র্যান্ডিং ও পাচার
উত্তরপ্রদেশের আমরােহায় খাদ্য বিভাগ আরও ভয়ংকর এক জালিয়াতি উন্মোচন করেছে। সেখানে চিপস, চানাচুর, মিষ্টি ও নুডলসের মতো মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলো বড় প্যাকেট থেকে খুলে পুনরায় নতুন প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এই বিষাক্ত খাদ্যপণ্যগুলো মূলত মুরাদাবাদ, সম্ভল ও রামপুরের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সরবরাহ করা হতো, যেখানে সাধারণ ক্রেতারা ব্র্যান্ডের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ কম পান।
মুনাফার লোভে চালানো এই অবৈধ কারবার সাধারণ মানুষের হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইসেন্সবিহীন কারখানা এবং নকল লেবেলিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- হায়দ্রাবাদ ও আহমেদাবাদে রাসায়নিক মিশ্রিত চা পাতা এবং ৪০০ কেজি পাম অয়েলে তৈরি নকল ঘি জব্দ।
- অযোধ্যায় নামী ব্র্যান্ডের মোড়কে প্রায় ৩০০০ প্যাকেট নকল রিফাইন তেল উদ্ধার ও কারখানা সিল।
- আমরােহায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিপস ও মিষ্টি পুনরায় প্যাকেটজাত করে গ্রামের বাজারে সরবরাহের পর্দাফাঁস।
- আলিগড়ে হরিয়ানা থেকে আসা ২৫২ লিটার নকল ঘি উদ্ধার করেছে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ।