‘আপ এখন দুর্নীতির আড্ডা, পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে দল’, ৭ সাংসদের ইস্তফার পর তোপ বিজেপির

ভারতের রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটিয়ে আম আদমি পার্টির (আপ) ১০ জন রাজ্যসভা সদস্যের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাঘব চড্ডা ও সন্দীপ পাঠক এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানান। দলত্যাগী এই তালিকায় আরও রয়েছেন হরভজন সিং, রাজেন্দ্র গুপ্ত, বিক্রম সাহনি, স্বাতী মালিওয়াল এবং অশোক মিত্তাল। দিল্লির রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির জন্য একে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের নাটকীয় দলবদল
আইনগত জটিলতা এড়াতে সুকৌশলে এই দলবদল সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে রাঘব চড্ডা জানান, সংবিধান অনুযায়ী কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য অন্য কোনো দলের সাথে একীভূত হতে পারেন। সেই নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ তারা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন। এই গণ-পদত্যাগের ফলে আপ-এর সংসদীয় শক্তি যেমন তলানিতে ঠেকেছে, তেমনি রাজ্যসভায় বিজেপির অবস্থান আরও সুসংহত হলো।
বিজেপির আক্রমণ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
এই ঘটনার পরপরই আম আদমি পার্টিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলটির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি দাবি করেছেন, দুর্নীতি ও আদর্শহীনতার কারণেই আপ আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর মতে, এটি আর কেবল জল্পনা নয়, বরং আপ-এর পতনের বাস্তব চিত্র। বিশ্লেষকদের মতে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং দুর্নীতির অভিযোগই এই গণ-দলবদলের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
এক ঝলকে
- আম আদমি পার্টির ১০ জন রাজ্যসভা সদস্যের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- দলত্যাগীদের মধ্যে রাঘব চড্ডা, সন্দীপ পাঠক ও ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট নাম রয়েছে।
- সাংবিধানিক নিয়ম মেনে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে দলবদল করায় সদস্যপদ বাতিলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
- এই ঘটনায় দিল্লির শাসক দল আপ চরম নেতৃত্ব সংকটের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।