লক্ষ্যপূরণের পথে নবান্ন: সরকারি গোলায় রেকর্ড ৪৮ লক্ষ টন ধান, মুখে হাসি রাজ্যের ২৭ লক্ষ চাষির!

চলতি খরিফ মরসুমে ধান সংগ্রহে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্য সরকার। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৪৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষ ৪ হাজার ২৮৫ জন কৃষক। সরাসরি সরকারি পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করে সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) ধান বিক্রি করতে পেরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরেছে।
ফড়েদের দাপট কমিয়ে সরাসরি ক্রয়
মাঝপথে ফড়ে বা মধ্যসত্বভোগীদের দাপট কমিয়ে সরাসরি চাষিদের হাত থেকে ধান কেনাই ছিল নবান্নের মূল লক্ষ্য। সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ ধান থেকে চাল তৈরির কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্যের নিবন্ধিত ৫৪৮টি চালকলে ধান পাঠানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি খাদ্য দফতরের কড়া নজরদারিতে সম্পন্ন হচ্ছে। গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখায় কৃষকদের আস্থা বেড়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ
চলতি মরসুমে রাজ্য সরকার মোট ৬৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। এপ্রিল মাসের শেষ লগ্নে এসে প্রায় ৪৮ লক্ষ টনের বেশি ধান সংগ্রহ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী আবহেও ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখায় গ্রামীণ বাজারে নগদের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
এক ঝলকে
- চলতি মরসুমে এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৪৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন ধান সংগৃহীত হয়েছে।
- মোট ২৭ লক্ষ ৪ হাজার ২৮৫ জন কৃষক সরাসরি সরকারের কাছে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করেছেন।
- সংগৃহীত ধান থেকে চাল তৈরির জন্য রাজ্যের ৫৪৮টি নিবন্ধিত চালকলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ৬৪ লক্ষ মেট্রিক টনের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার পথে রাজ্য সরকার অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।