“ভোটার স্লিপ ফেলবেন না, যত্নে রাখুন!” এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যবাসীকে বড় পরামর্শ মমতার

“ভোটার স্লিপ ফেলবেন না, যত্নে রাখুন!” এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যবাসীকে বড় পরামর্শ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রথম দফায় রাজ্যে রেকর্ড ৯২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়ার পর নতুন রণকৌশল নিয়ে ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার হাওড়া, কলকাতা বন্দর ও ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। সাধারণ মানুষকে নিজেদের ‘ভোটার স্লিপ’ অত্যন্ত যত্ন সহকারে গচ্ছিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

এনআরসি আতঙ্ক ও রক্ষাকবচ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ভবিষ্যতে বিজেপি সরকার যদি জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি কার্যকর করার চেষ্টা করে, তবে এই ভোটার স্লিপই নাগরিকত্বের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটার স্লিপ প্রমাণ দেয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। প্রয়োজনে এই স্লিপের ফটোকপি বা জেরক্স করে রাখার পরামর্শও দিচ্ছে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা। মূলত এনআরসি-র বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক তরজা ও ডিটেনশন ক্যাম্প

ভোটের আবহে এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্প ইস্যুকে ফের সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁর শাসনামলে বাংলায় কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, বিজেপি এই দাবিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, প্রথম দফার ভোটে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল নেত্রী সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক ভীতি সঞ্চার করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ ও রেকর্ড ভোটে সন্তোষ প্রকাশ করে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

এক ঝলকে

রাজ্যে কোনোভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প হতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর।

প্রথম দফার ভোটে বাংলায় রেকর্ড ৯২.৮৮ শতাংশ ভোটদানের হার।

এনআরসি-র হাত থেকে বাঁচতে ভোটার স্লিপ সংরক্ষণের পরামর্শ মমতার।

তৃণমূলের দাবি, ভোটার স্লিপই ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আইনি প্রমাণ হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *