‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়!’ SIR শুনানিতে কেন হঠাৎ বাংলা প্রবাদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মুখে?

‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়!’ SIR শুনানিতে কেন হঠাৎ বাংলা প্রবাদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মুখে?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সুপ্রিম কোর্টে এক চাঞ্চল্যকর শুনানিতে উঠে এল বাংলার চিরকালীন প্রবাদ ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’। শনিবার নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা ৬৫ জন সরকারি কর্মীর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির সময় বিচারপতি বাগচী মনে করিয়ে দেন যে, বড় শক্তির লড়াইয়ে যেন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বার্তা

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী স্পষ্ট জানান, যখন নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা হচ্ছে, তখন প্রশাসনের এটাও দেখা উচিত যেন ক্ষমতার লড়াইয়ে নিরীহ মানুষ পিষে না যায়। বিশেষ করে রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আদালত মনে করে, ক্ষমতার দাপটে যেন কোনো নাগরিকের নূন্যতম অধিকার বা জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।

ভোটের হার ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

প্রথম দফার ভোটে বাংলায় প্রায় ৯৩ শতাংশ রেকর্ড ভোটদান এবং আপেক্ষিক শান্তির প্রশংসা করেছে শীর্ষ আদালত। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও পরিস্থিতির উন্নতির কথা উল্লেখ করেন। তবে দ্বিতীয় দফার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কমিশন ও প্রশাসনকে হিংসা মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে আরও কঠোর হতে হবে। এই প্রবাদের মাধ্যমে বিচারপতি মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত ক্ষুদ্র কর্মীদের ও সাধারণ ভোটারদের স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • নির্বাচনের ডিউটিতে থাকা ৬৫ জন কর্মীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা।
  • শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বাংলার প্রবাদ উল্লেখ করে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা বলেন।
  • নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের দ্বৈরথে যেন আমজনতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়ে সতর্কবার্তা আদালতের।
  • প্রথম দফার বিপুল ভোটিং হার এবং শান্তির আবহে দ্বিতীয় দফার আগে এই মন্তব্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *