‘সব কিছু অযথা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা!’ বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে কমিশনকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ কমিশনের নির্দেশিকাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে এভাবে বাধা সৃষ্টি করা যায় না। আদালতের এই রায়ের ফলে কমিশনের ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা বড়সড় ধাক্কা খেল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নতুন সময়সীমা
মামলার শুনানিতে বিচারপতি মন্তব্য করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ওপর এমন বিধিনিষেধ চাপানো অর্থহীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তে এখন থেকে ভোটের আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোটের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এবং ভোটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধুমাত্র বাইকের পেছনে আরোহী বসার ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে জরুরি চিকিৎসা বা সামাজিক প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের বাইকে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের যুক্তি বনাম আইনি বৈধতা
শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাইক ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো বা অপরাধ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। নজরদারি এড়াতে বাইক সহজ মাধ্যম হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাল্টা যুক্তি দিয়ে রাজ্য সরকার জানতে চায়, কোন নির্দিষ্ট আইনের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। আদালত কমিশনের আইনি ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে জানায়, আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে সবকিছু স্তব্ধ করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
এই রায়ের ফলে অফিসযাত্রী এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনি ধারা ছাড়া ঢালাও নিষেধাজ্ঞা যে কার্যকর করা সম্ভব নয়, হাইকোর্টের এই ভর্ৎসনা সেই বার্তাই দিল। এর ফলে ভোটের ময়দানে নজরদারি চালাতে কমিশনকে এখন বিকল্প এবং আরও সুনির্দিষ্ট পন্থার ওপর নির্ভর করতে হবে।
এক ঝলকে
- ভোটের আগে বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
- নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের আগের রাত ও ভোটের দিন মিলিয়ে ১২ ঘণ্টার আংশিক বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
- জরুরি প্রয়োজনে ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাইকের পেছনে আরোহী নেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
- আইনি ভিত্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্য কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি।