ইরানের নিশানায় আরব বিশ্বের তেল খনি! যুদ্ধের তালিকায় কোন কোন দেশ? কাঁপছে বিশ্ববাজার

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এক ঝটিকা সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে এবং চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা পেতেই এই আকস্মিক সফর। এর আগে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্তে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার কথা বলেছিল ইরান, যদিও দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
সংঘাতের লক্ষ্যে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র
কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত একটি সম্ভাব্য ‘টার্গেট লিস্ট’ বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ওই তালিকায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কুয়েতের প্রধান তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের আবকাইক এবং কুয়েতের বুরগান তেলক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এই তালিকায় থাকায় জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দ্বিমুখী কৌশলে তেহরান
একদিকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি রক্ষার চেষ্টা, অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির মাধ্যমে ইরান মূলত একটি দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। যদি আমেরিকা বা ইসরায়েলের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে তেহরান। ইসলামাবাদের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে গালফ অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা।
এক ঝলকে
- আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা ও শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামাবাদ সফর।
- কাতার, ইউএই, সৌদি আরব ও কুয়েতের তেল-গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের তালিকা তৈরি।
- মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করার প্রচ্ছন্ন হুমকি।
- ইরানের সরকারি অবস্থান এবং আইআরজিসি-র কঠোর মনোভাবের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ স্পষ্ট।