৩ কোটি মানুষের কপালে জুটবে না অন্ন! আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চরম দারিদ্র্যের অশনি সংকেত

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের উন্নয়ন প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রো এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে। যদিও বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থায়।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় আঘাত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে কেবল জ্বালানি সংকটই নয়, বরং সারের সরবরাহ শৃঙ্খলও ভেঙে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনের ওপর, যার নেতিবাচক প্রতিফলন বছরের শেষ নাগাদ ফসলের ফলনের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) মতে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি যুদ্ধ আজ থেমে গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কাটিয়ে ওঠা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিপর্যস্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জিডিপি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক জিডিপির ০.৫% থেকে ০.৮% পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আট সপ্তাহের সংঘাতে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মতে, কয়েক দশকে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মাত্র কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো এই অস্থিতিশীলতার কারণে সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে ৩ কোটি মানুষের দারিদ্র্যের কবলে পড়ার আশঙ্কা।
- হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
- সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ০.৫% থেকে ০.৮% অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
- ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উচ্চ খাদ্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে।