ভারতেই মিলল সোনার পাহাড়! প্রতি বছর ১০০০ কেজি সোনা দেবে অন্ধ্রপ্রদেশের এই নতুন খনি

ভারতেই মিলল সোনার পাহাড়! প্রতি বছর ১০০০ কেজি সোনা দেবে অন্ধ্রপ্রদেশের এই নতুন খনি

অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণখনির সন্ধান মিলেছে, যা ভারতের খনিজ মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তুপ্পাকুন্টলা, জোনাগিরি ও কক্কালি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম বাড়ার কারণে যখন সোনার দাম আকাশছোঁয়া, ঠিক তখন জোনাগিরি প্রকল্পের এই খবর দেশীয় অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রভাব

সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এই খনি থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০০০ কেজি সোনা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ বছর ধরে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত প্রতি বছর প্রায় ১০০০ টন সোনা আমদানি করে, যা জ্বালানি তেলের পর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানিকৃত পণ্য। দেশীয় উৎস থেকে এই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া গেলে বিদেশের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এটিই হতে যাচ্ছে ভারতের প্রথম বেসরকারি স্বর্ণখনি, যেখানে ডেকান গোল্ড মাইন্স নামক সংস্থা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। জোনাগিরি প্রকল্পে আধুনিক ওপেন কাস্ট মাইনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিলা থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে সোনা আলাদা করা হবে। এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫০০ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে এবং পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন কয়েক হাজার মানুষ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

বিপুল খনিজ ভাণ্ডার

প্রায় ৬০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই খনিতে আনুমানিক ৪২.৫ টন সোনার মজুদ রয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। জোনাগিরি ছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশের বিসনাট্টম ও রামগিরির মতো এলাকাগুলোতেও স্বর্ণের সন্ধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এক ঝলকে

  • অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় দেশের প্রথম বেসরকারি স্বর্ণখনির সন্ধান।
  • বছরে ১০০০ কেজি সোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং মজুদ রয়েছে প্রায় ৪২.৫ টন।
  • ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।
  • ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে সোনা উত্তোলন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *