৫ বার মৃত্যুদণ্ড ও ৪ বার যাবজ্জীবন! ৫ শিশুকে লালসার শিকার করায় অপরাধীকে ঐতিহাসিক সাজা আদালতের

তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলায় পাঁচজন নাবালিকা শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে নজিরবিহীন সাজা শুনিয়েছে আদালত। ভিডিও গেম শেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের ওপর নৃশংস যৌন হেনস্তা চালানোর অভিযোগে চন্দ্রন নামক ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত বিষয়টিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেয়।
নজিরবিহীন দণ্ড ও আদালতের কঠোর অবস্থান
শিবগঙ্গার পকসো আদালত অপরাধী চন্দ্রনকে পাঁচটি পৃথক মৃত্যুদণ্ড, চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ২২ বছরের জেলসহ আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি গোকুল মুরুগান তার রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে, শিশুদের নিরাপত্তায় এই ধরনের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে। রায়ে প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারকে ৭ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ
সিঙ্গামপুনাড়ি এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রন স্থানীয় শিশুদের টার্গেট করে এই জঘন্য অপরাধ চালিয়ে আসছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিরুপাত্তুর মহিলা থানায় অভিযোগ জমা পড়ার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দ্রুত তদন্ত এবং জোরালো সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মাত্র কয়েক বছরের মাথায় আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করল। এই রায় ভবিষ্যতে শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এক ঝলকে
- পাঁচ শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত চন্দ্রনকে পাঁচটি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
- মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অপরাধীকে চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।
- আদালতের নির্দেশে পাঁচ ভুক্তভোগী পরিবারকে ৭ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
- তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার পকসো আদালত এই ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক রায়টি ঘোষণা করে।