নৌকায় মোদী, মনে মমতা! প্রধানমন্ত্রীর মাঝির মুখে ‘দিদি’ বন্দনা, শোরগোল বলাগড়ে

নৌকায় মোদী, মনে মমতা! প্রধানমন্ত্রীর মাঝির মুখে ‘দিদি’ বন্দনা, শোরগোল বলাগড়ে

বাংলায় নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর সমীকরণ ফুটে উঠল বলাগড়ের গঙ্গার ঘাটে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নৌকাবিহার করিয়ে রাতারাতি প্রচারের আলোয় চলে এসেছেন স্থানীয় মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আতিথেয়তা করলেও রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। গৌরাঙ্গর স্পষ্ট দাবি, বাংলার মসনদে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুনরায় দেখতে চান।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও মাঝির অভিজ্ঞতা

শুক্রবার সকালে আকস্মিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর নৌকাবিহারের সঙ্গী হন গৌরাঙ্গ। প্রায় ৪০ মিনিট গঙ্গার মাঝপথে মোদীকে ঘোরানোর সেই অভিজ্ঞতাকে ‘স্বপ্ন’ বলে মনে করছেন তিনি। এই কাজের বিনিময়ে এক হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেলেও এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে আলোচনায় আসলেও, গৌরাঙ্গর মন পড়ে আছে তৃণমূল নেত্রীর কর্মপদ্ধতিতেই। তাঁর মতে, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই এলাকায় আসতেন, তখন সাধারণ মাঝিদের সঙ্গে তাঁর সহজ যোগাযোগ স্থানীয়দের প্রভাবিত করেছে।

ভোটের হাওয়া ও তৃণমূলের পাল

রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি পাণ্ডিত্য না থাকলেও এলাকার জনমত সম্পর্কে সম্যক ধারণা রয়েছে এই মাঝির। গৌরাঙ্গর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষেই জোরালো হাওয়া বইছে। রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় সংযোগই তাকে ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে অভাবের সঙ্গে লড়াই করা গৌরাঙ্গর দৈনিক আয় মাত্র ২০০-৩০০ টাকা। প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়েও তিনি কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে রাজ্যের পরিচিত প্রশাসনিক ধারা বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, হাই-প্রোফাইল প্রচার বা ভিভিআইপি সফর সবসময় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শনে পরিবর্তন আনতে পারে না।

এক ঝলকে

আর্থিক দৈন্যদশা থাকলেও রাজনৈতিক অবস্থানে অটল থেকে তৃণমূলের পক্ষে হাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন এই মাঝি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নৌকাবিহার করিয়ে আলোচনায় বলাগড়ের মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রীর আতিথেয়তা করলেও ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ।

মাঝির মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার গুণ ও কাজের ধরনেই আস্থা জনগণের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *