সৌন্দর্যই হলো অভিশাপ! নিজের বাবা, ভাই ও নানার লালসার শিকার: ইতিহাসের সবথেকে দুর্ভাগা রানীর কাহিনী

সৌন্দর্যই হলো অভিশাপ! নিজের বাবা, ভাই ও নানার লালসার শিকার: ইতিহাসের সবথেকে দুর্ভাগা রানীর কাহিনী

ক্ষমতা আর সৌন্দর্যের আড়ালে মিশরের প্রাচীন ইতিহাসে লুকিয়ে আছে এক চরম ট্র্যাজেডি। অষ্টাদশ রাজবংশের রানি অনেকসেনামুন, যাঁর রূপই তাঁর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আপন পিতা, ভাই এবং শেষমেশ নিজের নানার লালসার শিকার হওয়া এই রানির জীবন কাহিনী আজ অবধি ইতিহাসবিদদের কাছে এক মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।

পারিবারিক নিষ্ঠুরতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী বংশের রক্ত বিশুদ্ধ রাখার দোহাই দিয়ে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের প্রচলন ছিল মিশরের রাজপরিবারে। রাজা আখানাতেন নিজের বোনকে বিয়ে করলেও তাঁর কুনজর পড়েছিল নিজ কন্যা অনেকসেনামুনের ওপর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজ পিতার হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয় তাঁকে। পিতার মৃত্যুর পর নিজের সহোদর ভাই তুতানখামেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। যদিও সেই দাম্পত্য সুখের ছিল না এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে তুতানখামেনের মৃত্যু রানিকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দেয়।

নানার সিংহাসন দখল ও রানির করুণ পরিণতি

তুতানখামেনের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন বৃদ্ধ সেনাপতি ‘আইয়া’, যিনি সম্পর্কে ছিলেন রানির আপন নানা। আইয়া জোরপূর্বক অনেকসেনামুনকে বিয়ে করতে চাইলে রানি প্রতিবেশী হিত্তি সাম্রাজ্যের রাজপুত্রের সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেলে রাজপুত্রকে হত্যা করা হয় এবং রানিকে বাধ্য করা হয় নিজ নানাকে বিয়ে করতে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় এই ভাগ্যবঞ্চিত রানির, যা আজও অমীমাংসিত।

এক ঝলকে

  • মিশরের রানি অনেকসেনামুন নিজের পিতা আখানাতেনের দ্বারা দীর্ঘ সময় নির্যাতিত হয়েছিলেন।
  • বংশ রক্ষার অদ্ভুত প্রথার কারণে নিজ ভাই তুতানখামেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
  • শেষ বয়সে নিজের আপন নানা আইয়ার লালসার শিকার হয়ে তাঁকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়।
  • মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনক মৃত্যু হয় ইতিহাসের এই বীতশ্রদ্ধ রানির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *