‘ওষুধ’ বলে খাওয়ানো হলো গর্ভপাতের বড়ি! নির্যাতিতার প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি, শ্রীঘরে তিন পাষণ্ড

অল্পবয়সী কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও বিপজ্জনক গর্ভপাতের ষড়যন্ত্রে উত্তাল কায়ামকুলাম! গত দুই বছর ধরে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্তার পর তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভুল বুঝিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে এক ফার্মাসি মালিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলো অভিজিৎ (২১), তার আত্মীয় অজিত এবং স্থানীয় একটি মেডিকেল স্টোরের মালিক আনাস (৪৫)। বর্তমানে তারা সকলেই জেল হেফাজতে রয়েছে।
প্রতারণা ও শারীরিক ঝুঁকি
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নির্যাতিতা কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দেয়। তবে কিশোরীর কাছে সত্য গোপন করে বলা হয়েছিল যে, এগুলো ভ্রূণের পুষ্টি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ। এই বিপজ্জনক পদক্ষেপের ফলে কিশোরীর শরীরে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে কায়ামকুলাম তালুক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের সন্দেহে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান অবস্থা
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরীকে বন্দনম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, কারণ গর্ভপাতের পর তার জরায়ুতে ভ্রূণের অংশ রয়ে যাওয়ায় জীবন সংশয় দেখা দিয়েছিল। প্রধান অভিযুক্ত অভিজিতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অবৈধভাবে গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহ করায় এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় ফার্মাসি মালিককেও কঠোর ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি চিকিৎসা নীতি ও শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা ও প্রতারণা করে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার।
- গর্ভ নিরোধক ওষুধকে পুষ্টিকর ওষুধ বলে খাইয়ে কিশোরীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়।
- শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির পর বিষয়টি সামনে আসে।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনসহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের।