‘ফরেন স্টাইলে’ প্রেমের ফাঁদ! হাত-পা বেঁধে প্রেমিককে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

বিদেশি ধাঁচে প্রোপোজ করার নামে প্রেমিকের হাত-পা বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার এক রোমহর্ষক ঘটনা বেঙ্গালুরুতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত তরুণী প্রেমাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসছে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। ঘটনার ভয়াবহতা এবং অভিযুক্তের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা দেখে খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তারাও বিস্মিত।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা
জেরায় অভিযুক্ত প্রেমা দাবি করেছেন, কিরণকে পুড়িয়ে মারার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মনে করছে। তদন্তকারীদের মতে, অপরাধের স্থল সাজানো হয়েছিল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। সেখানে বিষের বোতল ও ঘুমের ওষুধ টেবিলের ওপর এমনভাবে রাখা ছিল যাতে মনে হয় এটি একটি আবেগপ্রবণ আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল। কিন্তু ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য বলছে অন্য কথা।
ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্তের বর্ণনা
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ‘ফরেন স্টাইল সারপ্রাইজ’ দেওয়ার নাম করে কিরণের চোখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলেছিলেন প্রেমা। এরপর তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার সময় নিজে বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। কিরণের আর্তনাদ থামলে তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে বাথরুম থেকে বেরিয়ে মেইন গেট খুলে বাইরে চলে আসেন। একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন নৃশংসতা চালিয়ে এতটা স্বাভাবিক থাকা প্রায় আসাম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং সুপরিকল্পিত একটি অপরাধ। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ শেষ করেছে এবং অভিযুক্তের বয়ানের অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখছে। ভালোবাসার নাম করে এমন নিষ্ঠুরতা পুরো সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- বিদেশি কায়দায় সারপ্রাইজ দেওয়ার অজুহাতে প্রেমিক কিরণের হাত-পা বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেন প্রেমা।
- খুনের পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে বিষ ও ঘুমের ওষুধ মজুত করেছিলেন অভিযুক্ত তরুণী।
- প্রেমিকের মৃত্যুর আর্তনাদ চলাকালীন অভিযুক্ত প্রেমা বাথরুমে লুকিয়েছিলেন এবং পরে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
- পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।