মে মাস থেকেই শুরু ‘এল নিনো’র দাপট! রেকর্ড ভাঙা গরম আর খরার আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত

মে মাস থেকেই ভয়ঙ্কর গরমের দাপট শুরু হওয়ার আশঙ্কা এবং এল নিনোর প্রভাবে ওলটপালট হতে পারে আবহাওয়া। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই এল নিনোর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে, যার ফলে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় তাপমাত্রার পারদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। সাধারণত বর্ষার শেষের দিকে এই পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও, এবারের আগাম সতর্কতা নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
কৃষি ও জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব
এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের উপরিভাগের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওপর। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) ধারণা করছে, এল নিনোর প্রভাবে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও পানীয় জলের সংকট ও জ্বালানি চাহিদাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হিমালয়ে বরফ কমে আসায় বাড়ছে উদ্বেগ
তীব্র দাবদাহের পাশাপাশি হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, এ বছর হিমালয়ে বরফের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২৭.৮ শতাংশ কম, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর ফলে গঙ্গা ও সিন্ধুর মতো প্রধান নদীগুলোতে জলর প্রবাহ কমে যেতে পারে। হিমালয়ের এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জলবায়ু ও খাদ্য নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।
এক ঝলকে
- মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার ব্যাপক বৃদ্ধির সতর্কতা।
- দক্ষিণ এশিয়ায় গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে, যা খরার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
- হিমালয়ে বরফের পরিমাণ গত ২০ বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
- এর ফলে কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও নদী অববাহিকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।