ভোটে টাকা ছড়ানোর বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

নির্বাচনী লড়াইয়ের পারদ চড়তেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খিদিরপুরের সভা থেকে তিনি দাবি করেন, বস্তি এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে মোটা অঙ্কের টাকা বিলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি নাম না নিলেও ‘গদ্দার’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি মূলত দলত্যাগী নেতাদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন।
শান্তি বিঘ্নিত করার চক্রান্তের আশঙ্কা
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, ভোটের আগে বা ভোটের দিন এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা অশান্তি সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করানোর একটি গভীর চক্রান্ত চলছে। এমনকি স্থানীয় পুলিশের একটি অংশের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ভোটারদের প্রতি তাঁর কড়া বার্তা, কোনো প্রকার প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
ইভিএম পাহারা ও জয়ের লক্ষ্যমাত্রা
ভোটযন্ত্রে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, ভোট গ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত অতন্দ্র প্রহরীর মতো ইভিএম পাহারা দিতে হবে। বিরোধীদের কৌশল রুখতে প্রয়োজনে খাওয়া-দাওয়া ত্যাগ করে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেই জয়ের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত।
নেত্রীর দাবি অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল কংগ্রেস একশটির বেশি আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে। দ্বিতীয় দফা শেষ হওয়ার আগেই জোড়াফুল শিবির ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ বা দুইশোর গণ্ডি পার করবে বলে তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আভাস দিয়েছেন। এই মন্তব্য তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বাড়ালেও রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরে নির্বাচনী সভায় বস্তি এলাকায় ৫ হাজার টাকা করে বিলি করার অভিযোগ মমতার।
- অশান্তি সৃষ্টি ও দাঙ্গা বাধানোর আশঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ।
- ইভিএম জালিয়াতি রুখতে কর্মীদের কড়া নজরদারি ও মেশিন পাহারা দেওয়ার আহ্বান।
- তৃণমূলের ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার বিষয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর।