স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কমিশনের ওপর ভরসা নেই, ডোমকলে সিসি ক্যামেরা বসাল সব পক্ষই!

প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রংরুমে জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর—এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। সাধারণত স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব থাকলেও, এবার তাতে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে নির্বাচন কমিশনের সমান্তরালভাবে নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম।
অস্থায়ী তাঁবুতে চলছে কড়া নজরদারি
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা স্ট্রংরুমের নির্দিষ্ট দূরত্বে অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করেছেন। সেখানে টিভি মনিটর, হার্ডডিস্ক ও আধুনিক সরঞ্জাম বসিয়ে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্ট্রংরুমের আশপাশে কারা যাতায়াত করছেন বা কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা। দলীয় কর্মীদের পালা করে ডিউটি দেওয়া হয়েছে যাতে এক মুহূর্তের জন্যও নজরদারি এড়িয়ে কিছু না ঘটে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অনাস্থা ও সতর্কতা
শাসকদল ও বিরোধী—উভয় পক্ষই ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ভয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রানিনগরের তৃণমূল ও কংগ্রেস উভয় প্রার্থীর মতেই, কোনও ধরনের ঝুঁকি এড়াতে তারা এই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। সিপিএম প্রার্থীও শনিবার থেকে একই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারি ও কর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় থেকেই ডোমকলে সব পক্ষ একযোগে নিজস্ব প্রহরা বসাতে বাধ্য হয়েছে।
এক ঝলকে
- ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রংরুমে জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা সত্ত্বেও নিজস্ব উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বসাল তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম।
- স্ট্রংরুমের বাইরে অস্থায়ী তাঁবুতে টিভি মনিটর বসিয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন দলীয় কর্মীরা।
- কমিশনের ওপর আস্থার অভাব ও ইভিএম নিয়ে বাড়তি সতর্কতা থেকেই প্রার্থীদের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ।