অভিষেকের নখের যোগ্যও নও তুমি, নাম না করে বিরোধী দলনেতাকে তীব্র আক্রমণ মমতার

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনার জবাবে এবার আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় গঙ্গাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের এক জনসভা থেকে নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অভিষেকের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বিরোধীদের নেই। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিষেক
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, অভিষেককে নিয়ে অযথা কুৎসা করা হচ্ছে। নাম উচ্চারণ না করলেও তাঁর নিশানায় যে নন্দীগ্রামের বিধায়ক, তা রাজনৈতিক মহলে পরিষ্কার। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেকের তুই পায়ের যোগ্য নয়, নখের যোগ্য নয়। আগে ওর সঙ্গে লড়ো, তারপর আমাকে লড়তে আসবি।” মুখ্যমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নির্বাচনের আগে দলের দ্বিতীয় প্রধান সেনাপতিকে ঘিরে তিনি কোনও আপস করতে রাজি নন।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রসঙ্গ
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী নেতার পূর্বতন আর্থিক অবস্থা এবং পারিবারিক প্রসঙ্গ তুলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই-এর অতিসক্রিয়তা নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা এখন কেবল তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে। এর পাশাপাশি নিজের পরিবারের স্বচ্ছতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিরোধী শিবিরের কাউন্সিলর ও আত্মীয়দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে নির্বাচনের আগে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তিক্ততা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হলদিয়ার পর কলকাতার জনসভা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই আক্রমণ প্রমাণ করছে যে, মেদিনীপুরসহ রাজ্যজুড়ে আসন্ন লড়াইয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূল মুখ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এক ঝলকে
- নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্রমাগত আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
- রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ব্যাটন অভিষেকের হাতে তুলে দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।