একবিংশ শতাব্দীতেও মধ্যযুগীয় বর্বরতা, ডাইনি অপবাদে বৃদ্ধাকে পাশবিক অত্যাচার

একবিংশ শতাব্দীতেও মধ্যযুগীয় বর্বরতা, ডাইনি অপবাদে বৃদ্ধাকে পাশবিক অত্যাচার

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ থানার কানাইপুর এলাকায় এক বৃদ্ধাকে ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে যে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজকে লজ্জিত করে। গ্রামের শিশুদের অসুস্থতা ও এক যুবকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বদলে কুসংস্কারকে বেছে নেয় স্থানীয়দের একাংশ। ওঝার নিদান মেনে ৬৪ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে পিলারের সঙ্গে ঝুলিয়ে দফায় দফায় মারধর করা হয়। এমনকি পাশবিকতার সীমা ছাড়িয়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক মলমূত্র খাওয়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে।

কুসংস্কারের বলি ও প্রশাসনের ভূমিকা

তদন্তে জানা গেছে, মাসখানেক আগে গ্রামে ওঝা ডেকে সালিশি সভার মাধ্যমে এই ‘অন্ধকার নিদান’ দেওয়া হয়েছিল। নিগৃহীতা বৃদ্ধার পরিবারের অভিযোগ, দশ বছর আগে তাঁর স্বামীকেও একইভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছিল, যা এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী কুসংস্কারের শিকড় কতটা গভীর তা প্রমাণ করে। বর্তমানে ওই বৃদ্ধা রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে এবং মূল অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।

সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ উদ্বেগ

এই ঘটনাটি গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব এবং প্রশাসনের নজরদারির দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এই বর্বরতাকে ‘গ্রামের শুদ্ধিকরণ’ বলে দাবি করায় বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যদি দ্রুত আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞানমনস্ক প্রচার চালানো না হয়, তবে এই ধরনের সামাজিক ব্যাধি আগামীতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কুসংস্কারের এই অন্ধকার থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • রায়গঞ্জের কানাইপুরে ডাইনি অপবাদে এক বৃদ্ধাকে পৈশাচিক মারধর ও মলমূত্র খাওয়ানোর অভিযোগ।
  • ওঝার নিদান মেনে সালিশি সভার পর বৃদ্ধাকে তিন দিন ধরে আটকে রেখে চলে অমানুষিক নির্যাতন।
  • পুলিশি সহায়তায় অর্ধমৃত অবস্থায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
  • ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হলেও এলাকায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *