কম্বল মুড়ি দিয়ে ইভিএম লুঠের ছক! পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার

প্রথম দফায় রেকর্ড পরিমাণ ভোটদানের পর দ্বিতীয় দফার আগে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। রবিবার ভবানীপুরের প্রচারসভা থেকে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ভোটের আবহে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইভিএম কারচুপির অভিনব অভিযোগ
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে মমতা দাবি করেন, এলাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, অন্ধকারে কম্বল ও মুখোশ পরে বুথে ঢুকে ইভিএম লুঠ করার এক অভিনব ছক কষেছে বিরোধী শিবির। পরাজয়ের ভয়েই বিজেপি এই ধরনের বেআইনি পদক্ষেপ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশের প্রতি কড়া বার্তা ও প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাম্প্রতিক রদবদলের কারণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। পুলিশকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ৪ মে ভোটগণনার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য ছেড়ে চলে গেলেও পুলিশকে এখানেই থাকতে হবে। তাই তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রশাসনের নিচুতলায় যথেষ্ট মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রথম দফার পর থেকেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে ছিল তৃণমূল শিবির। প্রচারের শেষলগ্নে এসে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচন কতটা হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। আগামী ৪ মে ইভিএম খোলার পরই স্পষ্ট হবে, মমতার এই অভিযোগ জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলল।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরের সভা থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে একযোগে কড়া আক্রমণ মমতার।
- বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কম্বল ও মুখোশের আড়ালে ইভিএম লুঠের বিস্ফোরক অভিযোগ।
- ৪ তারিখের পর কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাবে মনে করিয়ে দিয়ে পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকার চরম হুঁশিয়ারি।
- প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফার আগে ইভিএম এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ।