পুলিশ আবাসনে শুভেন্দুর অনুমতিহীন প্রচার, কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

পুলিশ আবাসনে শুভেন্দুর অনুমতিহীন প্রচার, কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

রাজ্যজুড়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। কলকাতার বডিগার্ড লাইনস পুলিশ আবাসনে ঢুকে কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে শাসকদল ইতিপূর্বেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।

বিতর্কের মূলে অনুমতি ও নিরাপত্তা

তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত পুলিশ আবাসনের ভেতরে বহিরাগতদের নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রবেশ সম্পূর্ণ বেআইনি। এই প্রচারের জন্য নির্বাচন কমিশন বা কলকাতা পুলিশের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে স্পর্শকাতর সরকারি এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আবাসন প্রাঙ্গণে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে সেখানকার কর্মরত পুলিশ কর্মীদের একাংশ সরাসরি রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকুরিজীবীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। এই ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। বিধিভঙ্গ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে যেমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তেমনই কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে প্রশাসনিক রদবদল ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভোট চলাকালীন এই অস্থিরতা ভোটারদের ওপরও মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক ঝলকে

  • অনুমতি ছাড়াই পুলিশ আবাসনে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী প্রচারের অভিযোগ।
  • ঘটনাটিকে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে নির্বাচন কমিশনে নালিশ তৃণমূলের।
  • কর্মসূচিতে কর্মরত পুলিশ কর্মীদের অংশগ্রহণ ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
  • প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *