বিজেপির মাইক সংঘাতের জবাব দিতে ভবানীপুরের রাজপথে মমতার ৮৭ মিনিটের মেগা পদযাত্রা!

ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় গত শনিবারের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে রবিবার এক বিশাল জনজোয়ারের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতা। শনিবার বিজেপির মাইক প্রচারের জেরে সভা সংক্ষিপ্ত করে মঞ্চ ছাড়লেও, কথা অনুযায়ী পরদিন সেই একই এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোড হয়ে হাজরা ফায়ার ব্রিগেড মোড়ে শেষ হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের এই দীর্ঘ মিছিলে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিমসহ শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিশাল জমায়েত ও নিবিড় জনসংযোগ
রবিবার বিকেলের এই পদযাত্রাটি কেবল একটি রাজনৈতিক মিছিল নয়, বরং এক নিবিড় জনসংযোগ অভিযানে পরিণত হয়েছিল। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তৃণমূল নেত্রী শুধু হনহনিয়ে হাঁটেননি, বরং মাঝেমধ্যেই দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভিড়ের মধ্য থেকে আসা খুদেদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনেক জায়গায় প্রোটোকল ভেঙে অনুগামীরা তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেও এগিয়ে আসেন। বিশেষত বৃদ্ধ এবং হুইলচেয়ারে আসা সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল এই মিছলে নজরকাড়া।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পাল্টা কৌশল
শনিবারের ঘটনায় এলাকায় যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, রবিবারের এই শান্তিপূর্ণ অথচ বিশাল পদযাত্রা তাকে ছাপিয়ে গেল বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিজেপিকে ‘অসভ্যতা’ ও ‘উস্কানিমূলক আচরণের’ দায়ে অভিযুক্ত করার পর, সভা না করে পদযাত্রার পথ বেছে নেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক কৌশলী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘ পথে হেঁটে নিজের খাসতালুকে দলের শক্তি প্রদর্শন ও সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
এক ঝলকে
- শনিবারের সভা পণ্ড হওয়ার পর কথা রাখতে রবিবার ভবানীপুরে ৮৭ মিনিটের পদযাত্রা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে হাজরা পর্যন্ত দীর্ঘ পথে জনসংযোগ করেন এবং কর্মী-সমর্থকদের ভিড় সামাল দেন।
- মিছিলে কচিকাঁচা থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক এবং হুইলচেয়ারে আসা মানুষদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
- বিজেপির বাধাদান ও উস্কানির জবাব দিতেই এই বিশাল মিছিলের আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস।