রাফাল প্রযুক্তিতে এবার ‘আত্মনির্ভর’ ভারত! এফডিআর বিশ্লেষণে নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করছে বায়ুসেনা

রাফাল প্রযুক্তিতে এবার ‘আত্মনির্ভর’ ভারত! এফডিআর বিশ্লেষণে নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করছে বায়ুসেনা

ভারতীয় বিমান বাহিনী একদিকে যেমন নতুন যুদ্ধবিমান কিনে নিজেদের স্কোয়াড্রন শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেমনই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার দিকে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই লক্ষ্যেই এবার ফরাসি যুদ্ধবিমান ‘দাসো রাফাল’-এর জন্য দেশীয় পদ্ধতিতে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) বিশ্লেষণ সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা করেছে বায়ুসেনা।

কেন এই নতুন উদ্যোগ?

বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে ৩৬টি রাফাল বিমান রয়েছে এবং আরও ১১৪টি রাফাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমান ব্যবস্থায় রাফালের সাথে আসা এফডিআর সফটওয়্যারটি প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট প্যারামিটার প্রসেস করে এবং ত্রিমাত্রিক (3D) বিশ্লেষণ করতে পারে। তবে এই সিস্টেমে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:

  • জটিলতা ও ধীরগতি: বর্তমান সফটওয়্যারটি বেশ জটিল এবং এটি ডেটা প্রসেস করতে অনেক সময় নেয়।
  • সীমাবদ্ধ ব্যবহার: এটি প্রস্তুতকারক সংস্থা (OEM) সরবরাহকৃত একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারে সীমাবদ্ধ। ফলে এয়ারবেসের বাইরে থেকে এটি ব্যবহার করা যায় না, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ডেটা বিশ্লেষণে দেরি ঘটায়।

নতুন সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য

বায়ুসেনা এমন একটি দেশীয় এফডিআর অ্যানালাইসিস টুল তৈরি করতে চায় যা হবে দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব। এর বিশেষত্বগুলো হলো:

  • সার্বজনীন ব্যবহার: এটি ল্যাপটপ বা পিসিতে যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যাবে।
  • বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিশ্লেষণ: নতুন এই সফটওয়্যারটি আরও স্মার্টভাবে ডেটা বিশ্লেষণ করবে এবং সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করবে।
  • বিশাল ডেটা হ্যান্ডলিং: বায়ুসেনার বহরে এখন সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, অ্যাপাচি ও চিনুকের মতো উন্নত বিমান রয়েছে। তাই এমন একটি ‘ডেটা মাইনিং স্যুটে’র প্রয়োজন যা একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বিমান থেকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রসেস করতে সক্ষম হবে।

প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ও আত্মনির্ভরতা

প্রচলিত বিদেশি সফটওয়্যারগুলো সাধারণত আগে থেকে নির্ধারিত সমস্যাগুলোই শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু দেশীয় এই সিস্টেমে নতুন বা অজানা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরার ক্ষমতা থাকবে। এর ফলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও নিখুঁত হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। সর্বোপরি, এই উদ্যোগ সফল হলে প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ভারতের বৈদেশিক নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *