‘যৌতুক নয়, ঘরের লক্ষ্মী চাই!’ বাগদানে ২৫ লক্ষ টাকা ও ১৫ তোলা সোনা ফেরত দিয়ে নজির গড়লেন বরের বাবা

‘যৌতুক নয়, ঘরের লক্ষ্মী চাই!’ বাগদানে ২৫ লক্ষ টাকা ও ১৫ তোলা সোনা ফেরত দিয়ে নজির গড়লেন বরের বাবা

যৌতুক প্রথার অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে এক বিরল ও প্রশংসনীয় নজির স্থাপন করল এক পরিবার। বরের কপালে তিলক পরানোর সময় কনে পক্ষের দেওয়া নগদ ২৫ লক্ষ টাকা এবং ১৫ তোলা ওজনের সোনার গয়না সবিনয়ে ফিরিয়ে দিলেন বরের বাবা। তাঁদের সাফ কথা, “যৌতুক নেওয়া একটি গুরুতর পাপ। আমরা এই কুপ্রথা চাই না, ঘরের লক্ষ্মী হিসেবে শুধু এক কন্যাকে (পুত্রবধূ) চাই।”

বাগদান অনুষ্ঠানে চমক

উজ্জয়িনীর বাদনগরের বাংরেড গ্রামের রাজাওয়াত পরিবারের এই মহৎ উদ্যোগ এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বারনগরের একটি রিসোর্টে জিতেন্দ্র সিং রাজাওয়াতের ছেলে আদর্শ দীপ রাজাওয়াতের বাগদান অনুষ্ঠান চলছিল। পাত্রী দেপালপুরের বাসিন্দা মহেন্দ্র সিং পাওয়ারের কন্যা বিন্দিয়া কুমারী। অনুষ্ঠানের নিয়ম মেনে তিলক বা ‘টিকা’ পর্বের সময় যখন পাত্রীর বাবা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মূল্যবান অলঙ্কার নিয়ে মঞ্চে আসেন, তখন বরের পরিবার সেই উপহার নিতে অস্বীকার করে।

২৫ লক্ষ নগদ ও বিপুল সোনা ফেরত

পাত্রীর বাবা মহেন্দ্র সিং পাওয়ার তাঁর মেয়ের সুখের কথা ভেবে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ তোলা ওজনের সোনার গয়না সঙ্গে এনেছিলেন। সব মিলিয়ে এই উপচারের মূল্য ছিল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। কিন্তু পাত্র আদর্শ দীপ এবং তাঁর বাবা জিতেন্দ্র সিং রাজাওয়াত সেই সম্পদ গ্রহণ করতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন। তাঁরা জানান, বস্তুগত যৌতুকের চেয়ে একজন সুযোগ্য ও শিক্ষিত পুত্রবধূ তাঁদের কাছে অনেক বেশি দামী। শেষে কনে পক্ষের একান্ত অনুরোধে শুধুমাত্র সম্মানের নিদর্শন হিসেবে আদর্শ দীপ একটি সোনার আংটি গ্রহণ করেন এবং উভয়ের মধ্যে আংটি বদল হয়।

সমাজের প্রতি জোরালো বার্তা

উল্লেখ্য, বরের বাবা জিতেন্দ্র সিং রাজাওয়াত কেবল একজন সচেতন নাগরিকই নন, তিনি স্থানীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার জেলা সভাপতিও। তাঁর এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের পেছনে ছিল একটি বৃহত্তর সামাজিক উদ্দেশ্য। উপস্থিত অতিথিদের সামনে তিনি বলেন, “যৌতুকের এই কুপ্রথা আমাদের সমাজকে ভেতর থেকে নষ্ট করে দিচ্ছে। বিয়ের সময় এত বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য সব বাবার থাকে না। তাই এই প্রথা বন্ধ করতে আমাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে।”

রাজাওয়াত পরিবারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত শুধু তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই নয়, গোটা শহরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। যৌতুক প্রত্যাখ্যান করে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, সামাজিক মর্যাদা অর্থ বা গয়নায় নয়, বরং উন্নত মনন ও মূল্যবোধেই লুকিয়ে থাকে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *