প্রকৌশলীর গায়ে কাদা ছোড়ার শাস্তি! ১ মাসের কারাদণ্ড পেলেন মহারাষ্ট্রের BJP-র মন্ত্রী নিতেশ রানে

প্রকৌশলীর গায়ে কাদা ছোড়ার শাস্তি! ১ মাসের কারাদণ্ড পেলেন মহারাষ্ট্রের BJP-র মন্ত্রী নিতেশ রানে

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। ২০১৯ সালে মুম্বাই-গোয়া মহাসড়কে এনএইচএআই-এর (NHAI) এক ইঞ্জিনিয়ারের গায়ে কাদা ছোড়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রভাবশালী নেতা তথা মন্ত্রী নিতেশ রানে। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল আদালত।

কী ঘটেছিল ২০১৯ সালে?

ঘটনাটি ২০১৯ সালের জুলাই মাসের। তৎকালীন বিধায়ক নিতেশ রানে মুম্বাই-গোয়া মহাসড়কের বেহাল দশা পরিদর্শন করতে কাঙ্কাভলি এলাকায় গিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে রাস্তার বিশাল বড় বড় গর্ত ও কাদামাটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। জনরোষের মুখে পড়ে রানে ও তাঁর সমর্থকরা ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার একজন ইঞ্জিনিয়ারকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। অভিযোগ ওঠে, ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করার পাশাপাশি তাঁর ওপর বালতি বালতি কাদা ঢেলে দেন মন্ত্রী ও তাঁর অনুগামীরা। এই ঘটনার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জাতীয় স্তরে নিন্দার ঝড় উঠেছিল।

আইনি ধারা ও আদালতের রায়

পুলিশ এই ঘটনায় নিতেশ রানে এবং তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করেছিল:

  • ধারা ৩৫৩: সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দিতে বলপ্রয়োগ।
  • ধারা ৫০৪: শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান।
  • ধারা ৫০৬: অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন।

আদালত জানিয়েছে, জনগণের স্বার্থে আন্দোলন করার অধিকার থাকলেও একজন সরকারি আধিকারিককে এভাবে অপমান করা আইনত দণ্ডনীয়। যদিও মারধরের মূল অভিযোগ থেকে রানে এবং অন্য ৪০ জন অভিযুক্ত খালাস পেয়েছেন, তবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও অশালীন আচরণের দায়ে নিতেশ রানেকে এক মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

নিতেশ রানে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও প্রশাসনের গাফিলতি তুলে ধরতেই তিনি সেই কাজ করেছিলেন। তবে আদালতের রায়ের পর তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে তাঁরা এই রায়কে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন। আপাতত তিনি জামিনে থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশের ওপরই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ভর করছে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *