৩ দিন লাল থাকে ব্রহ্মপুত্রের জল! কামাখ্যা মন্দিরের এই অলৌকিক ঘটনার রহস্য কি ভক্তি নাকি বিজ্ঞান?

আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির হিন্দুধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ। প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে আয়োজিত অম্বুবাচী মেলাকে কেন্দ্র করে এই মন্দির ও সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ এক রহস্যময় ও পবিত্র রূপ ধারণ করে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিন দিন দেবী কামাখ্যা ঋতুমতী হন এবং সেই কারণেই ব্রহ্মপুত্রের জল হালকা লাল বর্ণ ধারণ করে। সৃষ্টির উৎস এবং নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে এখানে কোনও প্রতিমার বদলে একটি যোনি-আকৃতির শিলাকে পূজা করা হয়।
পৌরাণিক গুরুত্ব ও অম্বুবাচী মেলা
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞের পর মহাদেবের তাণ্ডব থামাতে ভগবান বিষ্ণু যখন সুদর্শন চক্র দিয়ে দেবী সতীর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করেন, তখন তাঁর গর্ভ বা যোনি অংশটি এই নীলাচল পাহাড়ে পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এটি ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে অম্বুবাচী মেলার সময় দেবীর বার্ষিক ঋতুচক্রের কথা মাথায় রেখে মন্দিরের দ্বার তিন দিন বন্ধ রাখা হয়। এই সময়টিকে দেবীর বিশ্রাম ও শুদ্ধিকরণের পর্যায় মনে করেন ভক্তরা, যার ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অঞ্চলটি এক ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে প্লাবিত হয়।
রহস্যের নেপথ্যে বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস
ব্রহ্মপুত্রের জল লাল হওয়া নিয়ে ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস থাকলেও বিজ্ঞানীদের ভিন্ন মত রয়েছে। গবেষকদের একাংশের মতে, এই অঞ্চলের পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে সিনাবার বা লাল খনিজ উপাদান রয়েছে, যা বর্ষার জলে ধুয়ে নদীতে মিশলে জল লালচে দেখায়। আবার অনেকের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম নেওয়া বিশেষ এক ধরণের শৈবাল এই রঙের পরিবর্তনের জন্য দায়ী হতে পারে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, বছরের নির্দিষ্ট তিনটি দিনেই এই ঘটনা ঘটা ভক্তদের কাছে এক অলৌকিক মাহাত্ম্য বহন করে। চতুর্থ দিনে মন্দিরের দ্বার খোলার পর দেবীর আশীর্বাদ হিসেবে ভক্তদের বিশেষ সিক্ত বস্ত্র প্রদান করা হয়।
এক ঝলকে
- আসামের কামাখ্যা মন্দিরে প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে অম্বুবাচী মেলা উপলক্ষ্যে তিন দিন মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে।
- প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিন দিন দেবী ঋতুমতী হওয়ার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের জল লাল হয়ে যায়।
- বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ি লাল খনিজ (সিনাবার) বা বিশেষ শৈবালের কারণে জলের রঙের এই পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে।
- কামাখ্যা মন্দিরটি ৫১টি শক্তিপীঠের একটি এবং এখানে কোনও মূর্তির বদলে যোনি-আকৃতির শিলা পূজা করা হয়।