শুধু কি গাছের অভাব? দেশজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের আসল কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষভাগেই দেশের একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের মতো অঞ্চলগুলিতে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মেছে যে, বৃক্ষছেদন ও বনভূমির অভাবই এই চরম আবহাওয়ার একমাত্র কারণ। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও সরকারি রিপোর্ট এই ধারণার বিপরীতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছে।
বনভূমি বৃদ্ধি বনাম ক্রমবর্ধমান তাপ
গ্লোবাল ফরেস্ট রিসোর্সেস অ্যাসেসমেন্টের ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বনভূমি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং মোট বনভূমির নিরিখে নবম। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ২৫.১৭ শতাংশ বন ও বৃক্ষ দ্বারা আবৃত। মজার বিষয় হলো, গত কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারের তুলনায় ভারতে এই বৃদ্ধির হার বেশ কম। যেখানে বিশ্বে প্রতি দশকে উষ্ণতা ১ থেকে ১.৫ ডিগ্রি বাড়ছে, সেখানে ভারতে এই বৃদ্ধির হার ০.৫ থেকে ১ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
চরম উষ্ণতার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ তীব্র হওয়ার পেছনে কেবল গাছের অভাব দায়ী নয়, বরং এর মূলে রয়েছে জটিল ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণ। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাবের পাশাপাশি ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বা শহুরে তাপবলয় তৈরির ফলে বড় শহরগুলিতে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। কংক্রিটের আধিক্য এবং প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্রের পরিবর্তনের ফলে রাতের বেলাতেও স্বস্তি মিলছে না। নগরায়ণের কারণে কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে গাছের সংখ্যা কমলেও সার্বিক বনভূমি বৃদ্ধি ভারতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এক ঝলকে
- এপ্রিলের শেষে দিল্লি ও রাজস্থানসহ একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
- ভারতে বনভূমি বৃদ্ধির হার ইতিবাচক এবং দেশ বর্তমানে বনভূমি বৃদ্ধিতে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
- গত দশকে ভারতে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
- বনভূমি বাড়লেও বিশ্ব উষ্ণায়ন ও শহুরে কংক্রিটের কাঠামোর কারণে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে।