৬০ ঘণ্টায় ২৪৭৩ জন শ্রীঘরে! দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন ‘অপারেশন ক্লিন’ কমিশনের

৬০ ঘণ্টায় ২৪৭৩ জন শ্রীঘরে! দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন ‘অপারেশন ক্লিন’ কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে মেটানোর পর দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি আসনে সেই ধারা বজায় রাখতে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। বুধবারের ভোটের ঠিক আগে গত ৬০ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ধরপাকড় চালিয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোট ২ হাজার ৪৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে নাশকতার আশঙ্কা নির্মূল করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

নিরাপত্তা অভিযানে ধরপাকড়

কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। মূলত নির্বাচনী হিংসার পূর্ব রেকর্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। রবি ও সোমবারের ধারাবাহিক তল্লাশিতে বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজনকে জালে তোলা হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন ব্যক্তিদের আগেভাগেই সরিয়ে দিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানোই এই ব্যাপক গ্রেফতারির মূল কারণ।

আইনি জটিলতা ও সংঘাত

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন তৎপর হলেও ‘ট্রাবল মেকার’ বা সম্ভাব্য গোলমালকারীদের তালিকা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। হাইকোর্ট এই তালিকা আগে খারিজ করলেও পুনরায় ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করায় বিষয়টি ফের আদালতের নজরে আনা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে মামলা দায়েরের অনুমতি পাওয়ার ফলে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি অধিকারের মধ্যে এক নতুন সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, গোলমালের সামান্য অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক ঝলকে

  • দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ৬০ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ২,৪৭৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
  • উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ ৮টি জেলার ১৪২টি আসনে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।
  • নির্বাচনী হিংসার রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের গতিবিধিতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন।
  • ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা নিয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টে আইনি মামলার অনুমতি মিলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *