জোর করে ওভারটাইম আর নয়! ১ এপ্রিল থেকে দেশে নয়া শ্রম বিধি, কোন কর্মীরা পাবেন বিপুল সুবিধা?

চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে নতুন শ্রম বিধি। এই নতুন নিয়মের অধীনে এখন থেকে অফিসে নির্ধারিত শিফটের বাইরে অতিরিক্ত সময় কাজ করলে কর্মীরা সাধারণ বেতনের তুলনায় দ্বিগুণ হারে অর্থ পাবেন। মূলত কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এবং শ্রম বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২৯টি পুরনো আইনকে একীভূত করে চারটি প্রধান কোড বা বিধিতে রূপান্তর করেছে কেন্দ্র সরকার।
কাজের সময় ও বেতন কাঠামো
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক দিনে কাজের স্বাভাবিক সময়সীমা ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা অপরিবর্তিত থাকছে। তবে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে ওভারটাইমের ক্ষেত্রে। এখন থেকে সংস্থাগুলো চাইলেই কর্মীদের দিয়ে জোরপূর্বক অতিরিক্ত কাজ করাতে পারবে না; ওভারটাইমের জন্য কর্মীর আগাম সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বেতন, শিল্প সম্পর্ক, সামাজিক সুরক্ষা এবং পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়গুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুবিধাভোগী ও আইনি সুরক্ষা
তবে এই নতুন সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উচ্চপদস্থ ম্যানেজার বা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ‘কর্মী’র সংজ্ঞায় না পড়ায় তাঁরা এই ওভারটাইম ভাতা পাবেন না। আবার সুপারভাইজারদের ক্ষেত্রে তাঁদের কাজের ধরন ও বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি কোনো সংস্থা ওভারটাইম করিয়েও পাওনা টাকা দিতে অস্বীকার করে, তবে কর্মীরা লেবার কমিশনার বা ওয়েজ ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন। অভিযোগ প্রমাণের জন্য পে-স্লিপ বা হাজিরা রেকর্ডের মতো নথি থাকা প্রয়োজন।
লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণেও এই নতুন বিধি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়োগ বা বেতনের ক্ষেত্রে নারী, পুরুষ বা রূপান্তরকামী কর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে এবং তাঁদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে।
এক ঝলকে
- ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে নতুন শ্রম বিধি।
- নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করলে মিলবে সাধারণ হারের দ্বিগুণ বেতন।
- ওভারটাইম করানোর ক্ষেত্রে কর্মীর আগাম সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- উচ্চপদস্থ ম্যানেজার ও প্রশাসনিক কর্মীরা এই বিশেষ সুবিধার আওতাভুক্ত নন।