লক্ষ কোটি ডলারের ধাক্কা! ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে আমেরিকার অত্যাধুনিক মিসাইল ভাণ্ডার

লক্ষ কোটি ডলারের ধাক্কা! ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে আমেরিকার অত্যাধুনিক মিসাইল ভাণ্ডার

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৩৮ দিনের প্রক্সি ও সরাসরি যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক অভাবনীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে আমেরিকার অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে যে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার, তা বর্তমানে ১০০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

অস্ত্রাগারে টান ও আকাশচুম্বী খরচ

যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে ঘায়েল করতে আমেরিকা ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় তারা হারিয়েছে তাদের শ্রেষ্ঠ সব যুদ্ধাস্ত্র। জানা গেছে, প্রতিটি ৩.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০০০-এর বেশি ‘টমাহক’ মিসাইল ব্যবহার করায় মার্কিন ভাণ্ডারে এখন টান পড়েছে। সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়; ইরানের সস্তা ড্রোন ও মিসাইল রুখতে আমেরিকাকে প্রতিটি ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২০০টি ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল খরচ করতে হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকার কাছে ‘জেএএসএসএম’ (JASSM) মিসাইলের মজুত কমে মাত্র ১৫০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাল্টা মারে বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি

ইরান কেবল রক্ষণভাগ সামলায়নি, বরং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তীব্র পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। এই হামলায় আমেরিকার রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং যুদ্ধবিমান ওঠানামার রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত সাতটি প্রধান সামরিক ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে এখন কয়েক হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিশাল ক্ষতি সামাল দিতে এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে জরুরি ভিত্তিতে সিনেটের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে।

এক ঝলকে

  • ৩৮ দিনের এই যুদ্ধে আমেরিকার আনুমানিক ব্যয়ের পরিমাণ ১০০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
  • ১০০০টি টমাহক এবং ১২০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহারের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুত সংকটে পড়েছে।
  • ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার ৭টি প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়েছে।
  • ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও সস্তা ইরানি ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে মার্কিন অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *