IPS অজয় পালের ওপর এখনই কোপ নয়! পুলিশ পর্যবেক্ষকের কাজে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ কলকাতা হাইকোর্ট

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তপ্ত আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় হস্তক্ষেপ করতে চাইল না কলকাতা হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এক আইনজীবী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে নারাজ আদালত।
অভিযোগ ও আইনি জটিলতা
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়ে অজয় পাল শর্মা নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শন করছেন। বিশেষ করে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ধমক দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেয়। আবেদনে আরও জানানো হয় যে, ওই অফিসারের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশেও একাধিক মামলা রয়েছে, তাই তাঁকে নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি কৃষ্ণা রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় এখনই শুনানি সম্ভব নয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ২৯ এপ্রিল বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ পর্যন্ত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কোনো আধিকারিকের কাজে হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না। প্রয়োজনে অভিযোগকারীকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনের পরে এই বিষয়ে পুনরায় মামলা করার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
এই রায়ের ফলে ভোটের ঠিক আগে পুলিশ পর্যবেক্ষকের প্রশাসনিক সক্রিয়তা বজায় থাকল। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, মিথ্যা অভিযোগ তুলে এলাকায় অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন এই আইপিএস অফিসার। নির্বাচনের মুখে আদালতের এই অবস্থানে আপাতত স্বস্তিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকরা।
এক ঝলকে
- আইপিএস অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট।
- দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাজে আদালত বাধা দেবে না বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।
- প্রয়োজনে অভিযোগকারীকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে বা নির্বাচনের পরে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক এই অফিসারের বিরুদ্ধে ফলতার প্রার্থীর বাড়ি গিয়ে ধমক দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল শাসকদল।