‘১০ হাজার দাও, তবেই মিলবে ভোটার স্লিপ!’ বনগাঁয় বিএলও-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তোলাবাজির অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিএলও’র বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বনগাঁর কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭০ নম্বর বুথের বাসিন্দা সুশীল বিশ্বাসের অভিযোগ, স্থানীয় বিএলও মৃন্ময়ী রায় ভোটার স্লিপ দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই পরিবারের সদস্যদের ভোটার স্লিপ আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ ও আইনি পদক্ষেপ
সোমবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। বিক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত বিএলও’র বাড়ির সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বনগাঁ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। অভিযুক্ত বিএলও মৃন্ময়ী রায় পেশায় একজন শিক্ষিকা। তাঁর বিরুদ্ধে ইমেলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য প্রিয়া বিশ্বাস।
অভিযোগের ব্যাপকতা ও প্রভাব
ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এলাকার এক প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং স্লিপ দেওয়ার নাম করে প্রায় ৫০ জন ভোটারের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও বিএলও মৃন্ময়ী রায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, কাউকে হয়রানি করা হয়নি এবং নিয়ম মেনেই কাজ চলছে। ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যা ভোটারদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- বনগাঁর বিএলও মৃন্ময়ী রায়ের বিরুদ্ধে ভোটার স্লিপ দেওয়ার নামে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ।
- টাকা না দেওয়ায় ভোটার স্লিপ আটকে রাখার দায়ে বিএলও’র বাড়ির সামনে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ।
- নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু।
- অভিযুক্ত বিএলও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।