‘কমিশন কি আদালতের ঊর্ধ্বে?’ ৩৫০০ কর্মীকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগে ফের হাই কোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

‘কমিশন কি আদালতের ঊর্ধ্বে?’ ৩৫০০ কর্মীকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগে ফের হাই কোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হলো। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে তিন হাজার তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা নিতে চাইছে— এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়ায় শেষ দফার ভোটের আগে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আদালতের অবস্থান বনাম কমিশনের সক্রিয়তা

এর আগে প্রথম দফা ভোটের সময় হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ বা গোলমাল সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ঢালাও গ্রেফতারি চালানো যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সীমাহীন নয় এবং নাগরিকের স্বাধীনতা কেবল আইন মেনেই সীমিত করা সম্ভব। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কমিশন নতুন করে তালিকা প্রকাশ করে পদক্ষেপ শুরু করায় আইনি অবমাননার অভিযোগ তুলেছে ঘাসফুল শিবির।

গ্রেফতারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেষ দফার ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি এড়াতে তৎপর হয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও বিপুল সংখ্যক ধরপাকড় করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক সক্রিয়তাকেই চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এক ঝলকে

  • আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে ৩৫০০ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে।
  • প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়েরের অনুমতি পেলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে পূর্ব বর্ধমানে সর্বোচ্চ ৪৭৯ জন।
  • কমিশনের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলে আগের শুনানিতে জানিয়েছিল হাইকোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *