রেকর্ড বাজেয়াপ্ত ও দ্রুত তদন্ত: ইডির বার্ষিক রিপোর্টে নতুন পরিসংখ্যানের চমক

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেছে। এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত এক বছরে আর্থিক তছরুপ রোধে নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছে সংস্থাটি। ইতিহাসের সর্বাধিক ৮১ হাজার ৪২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তদন্তের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে চমকপ্রদভাবে কমেছে গ্রেফতারির সংখ্যা।
রেকর্ড সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, কমেছে গ্রেফতারি
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইডি মোট ৮১,৪২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা আগের অর্থবর্ষের (৩০,০৩৬ কোটি টাকা) তুলনায় ১৭১ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে দেশজুড়ে ২,৮৯২টি তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। তবে গ্রেফতারির সংখ্যা আগের বছরের ২১৪ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৫৬-তে। ইডির দাবি, বর্তমানে তারা ‘প্রমাণভিত্তিক লক্ষ্যভিত্তিক তদন্ত’ বা এভিডেন্স-বেসড ইনভেস্টিগেশনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যার ফলে ঢালাও গ্রেফতারি এড়িয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দ্রুত নিষ্পত্তির পথে তদন্ত
তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতেও বড় সাফল্য পেয়েছে সংস্থাটি। আগে যেখানে একটি আর্থিক তছরুপের মামলার নিষ্পত্তি হতে গড়ে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগত, বর্তমানে সেই সময়সীমা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ থেকে ১.৫ বছর। ডিজিটাল ফরেনসিক এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মামলা নিষ্পত্তির এই গতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতারিতদের টাকা ফেরতের উদ্যোগ
ইডির রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে যে, বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের টাকা ফেরাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণার মামলায় ভুক্তভোগীদের কাছে মোট ১৫,৫৮২ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের অর্থবর্ষেও প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নজির গড়েছিল এই সংস্থা।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অমীমাংসিত মামলা
বিদেশে টাকা পাচার রুখতে আন্তর্জাতিক স্তরেও সক্রিয়তা বাড়িয়েছে ইডি। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের কাছে লেটার্স রোটেটরি (LR) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বিদেশের সংস্থাগুলোর কাছে ৩৫৩টি মামলার তথ্যপ্রমাণ চেয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৯টি মামলা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, বিদেশি তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্রিটেন সবচেয়ে বেশি সাহায্য চেয়েছে ইডির কাছ থেকে।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইডি তাদের কর্মপদ্ধতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।