গণনার আগের রাতে ধুন্ধুমার বিধাননগরে! স্ট্রংরুমের সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ সামলাতে নামল র‍্যাফ

গণনার আগের রাতে ধুন্ধুমার বিধাননগরে! স্ট্রংরুমের সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ সামলাতে নামল র‍্যাফ

বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিধাননগর কলেজ সংলগ্ন স্ট্রংরুম চত্বর। শনিবার মধ্যরাতে ইভিএম পাহারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি বিশাল র‌্যাফ (RAF) নামাতে হয়। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে জওয়ানরা লাঠিচার্জ করেন বলে জানা গেছে।

মাঝরাতে উত্তপ্ত বিধাননগর কলেজ

বিধাননগর সরকারি কলেজে বিধাননগর ও রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএমগুলি রাখা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ স্ট্রংরুমের বাইরে মোতায়েন থাকা দুই রাজনৈতিক শিবিরের কর্মীদের মধ্যে আচমকাই বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উত্তেজনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। অশান্তি চরম আকার ধারণ করলে পুলিশ ও র‌্যাফ লাঠি উঁচিয়ে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় দুই দলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্ট্রংরুম পাহারা ও রাজনৈতিক আস্থাহীনতা

ভোট পরবর্তী সময়ে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই চূড়ান্ত সতর্ক। ইতিপূর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্ট্রংরুম পাহারার ডাক দিয়েছিলেন এবং ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে ধরনায় বসেছিলেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। শনিবার রাতের এই ঘটনা সেই রাজনৈতিক আস্থাহীনতাকেই ফের সামনে নিয়ে এল। যদিও কমিশনের দাবি, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র এবং সেখানে কোনো বহিরাগত প্রবেশের সুযোগ নেই।

উত্তেজনার আবহে গণনার প্রস্তুতি

শনিবার রাতের এই ঘটনার পর বিধাননগর কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই সংঘর্ষের ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানাতে চলেছে। সোমবার সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগে এই ধরণের সংঘাত বিধাননগর ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *