ফলতায় বেনজির পদক্ষেপ কমিশনের! বাতিল গোটা কেন্দ্রের ভোট, পুনর্নির্বাচন ২১ মে

ফলতায় বেনজির পদক্ষেপ কমিশনের! বাতিল গোটা কেন্দ্রের ভোট, পুনর্নির্বাচন ২১ মে

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনরায় ভোট নেওয়া হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে। এর ফলে ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলপ্রকাশ হলেও ফলতার ভাগ্য ঝুলেই রইল।

স্ক্রুটিনি রিপোর্টে কারচুপির প্রমাণ

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন থেকেই ফলতা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ইভিএম মেশিনে বিশেষ রাজনৈতিক দলের চিহ্নের ওপর আঠা বা টেপ লাগিয়ে রাখার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিল বিজেপি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ওই এলাকার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, একাধিক বুথে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং দুপুর ১টা পর্যন্ত ইভিএমে টেপ লাগানো অবস্থাতেই প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। এই চূড়ান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখার পরেই গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিলের পথে হাঁটল কমিশন।

শিরোনামে ‘সিংঘম’ বনাম তৃণমূল দ্বৈরথ

ফলতার এই নির্বাচনী লড়াই প্রথম থেকেই ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ তথা পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সংঘাত খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। ভোটের দিন বুথে বুথে অজয়পাল শর্মার কড়া নজরদারি ও ধরপাকড় নিয়ে শাসক দল ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, শেষ পর্যন্ত কমিশনের রিপোর্টে রিগিং ও বুথ দখলের প্রমাণ মেলায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

ফলাফলে প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৪ মে কেবল ২৯৩টি আসনের চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে। ফলতার ফলাফল পেতে রাজ্যবাসীকে আরও ২০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আক্রমণ শানালেও, বিজেপি এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছে। ২১ মে-র পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় পুনরায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল মহড়া ও কঠোর নিরাপত্তার প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *