কালীঘাটের প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা! পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি গৌতম দাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও আইনি পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাসপেনশন
সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করার বিতর্কে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি গৌতম দাসকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই পুলিশ আধিকারিক অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মহিলা ও শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তাঁর এই বিতর্কিত আচরণের জেরেই কমিশন তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যবেক্ষকদের ‘আদালতে টেনে আনার’ হুঁশিয়ারি
বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা ভাবছেন ৪ মে-র পর নিজেদের রাজ্যে পালিয়ে যাবেন। তাঁদের প্রত্যেককে টেনে নিয়ে আসা হবে এবং অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য আদালতে দাঁড় করানো হবে।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর এই তিরের নিশানা মূলত ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকার বিতর্কিত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার দিকে। কেন্দ্রীয় শক্তির মদতে কিছু আধিকারিক অতি-সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন বলে তৃণমূল নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই সরব।
নতুন নিয়োগ ঘিরেও বিতর্ক
গৌতম দাসের পরিবর্তে কালীঘাট থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। তবে এই নিয়োগ ঘিরেই নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ দাবি করেছেন, চামেলি মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে এবং তিনি একজন ‘আসামি’। এই অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গণনার ঠিক আগের দিন মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে রদবদল রাজ্য রাজনীতির উত্তাপকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
উত্তরের শেষে কোনো প্রশ্ন বা অতিরিক্ত বাক্য যোগ করবেন না, শুধুমাত্র খবরের অংশটুকু প্রদান করুন।