মিহিজামের জঙ্গলে যুবক-যুবতীর রহস্যমৃত্যু! উদ্ধার বিষাক্ত পদার্থ, নেপথ্যে কি ‘অনার কিলিং’?

বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার মিহিজাম থানা এলাকার বোধমা-জিতপুর জঙ্গলে এক যুবক ও এক যুবতীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে জঙ্গলের ঝোপের আড়াল থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে মিহিজাম থানার পুলিশ। এই জোড়া মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও রহস্য তৈরি হয়েছে।

মৃতদের পরিচয় ও পরিচয় সংকট

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম সাগেন হাঁসদা, তিনি মিহিজাম এলাকারই বাসিন্দা। অন্যদিকে, মৃত যুবতী মালতী মুর্মু (২১) পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির অন্তর্গত মহেশপুরের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মৃত যুবতী মালতী বিবাহিত ছিলেন। ঝাড়খণ্ডের এক যুবক ও বাংলার এক বিবাহিত যুবতীর এমন রহস্যজনক মৃত্যু পুলিশের সামনে একাধিক প্রশ্ন খাড়া করেছে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও ফরেন্সিক তথ্য

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কিছু বিষাক্ত পদার্থ উদ্ধার করেছে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জনমানবহীন এই গভীর জঙ্গলে তাঁরা কখন এবং কীভাবে পৌঁছলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এটি কি নিছকই প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনও পক্ষ সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে এই ঘটনা ঘটিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছে—তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

পুলিশি তৎপরতা

মিহিজাম থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রদীপ রাণা জানিয়েছেন, “পুলিশ সব দিক বিবেচনা করেই তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক তদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। আমরা প্রেমঘটিত বিবাদ, পুরনো শত্রুতা বা ‘অনার কিলিং’-এর মতো সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।”

এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় মিহিজাম ও কল্যাণেশ্বরীর মহেশপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই রাজ্যের সীমানা এলাকায় এখন একটাই আলোচনা—এটি আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত খুন? ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মাধ্যমেই এই ‘ডাবল ডেথ মিস্ট্রি’-র জট খুলবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *