সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের ‘বড় জয়’! গণনায় রাজ্যের কর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না, পিছু হটল কমিশন?

সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের ‘বড় জয়’! গণনায় রাজ্যের কর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না, পিছু হটল কমিশন?

নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটগণনায় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য—উভয় সরকারেরই কর্মচারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের আর্জির সামনে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নিয়মবিধি

তৃণমূলের করা মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটগণনার কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী:

  • ভারসাম্য রক্ষা: গণনাকেন্দ্রে কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করা যাবে না।
  • রাজ্য কর্মীদের ভূমিকা: রাজ্য সরকারের অভিজ্ঞ কর্মচারীদেরও সমানভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে।
  • স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: নিয়োগের ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার কথা কমিশন আগে বলেছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।

তৃণমূলের দাবি: ‘পিছু হটল কমিশন’

আদালতের এই রায়ের পর ঘাসফুল শিবিরের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করে গণনার কাজে যে একতরফা কৌশল নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কমিশন, আইনি লড়াইয়ে তা পরাস্ত হয়েছে। তৃণমূলের বিবৃতিতে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “আদালতের নির্দেশে পিছু হটতে হল সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে।” শাসকদলের দাবি, এই রায় প্রমাণ করে যে গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে তাদের তোলা আশঙ্কা সঠিক ছিল।

কমিশনের মৌনতা

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান এবং তৃণমূলের আক্রমণের মুখে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সাধারণত, গণনার কাজে কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী থাকে কমিশন, বিশেষ করে স্পর্শকাতর বুথ বা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর সোমবারের গণনায় রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় স্তরের কর্মীদেরই টেবিল সামলাতে দেখা যাবে।

আগামীকাল ৪ মে সকাল থেকে শুরু হবে ভাগ্যনির্ধারণী গণনা। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই রক্ষাকবচ তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, আদালতের নির্দেশ মেনে কমিশন গণনার প্রক্রিয়াটি কতটা মসৃণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *