ইভিএম-এর পাহারায় ‘থ্রি-লেয়ার’ নিরাপত্তা, সোমবারের মহাগণনার আগে নিশ্ছিদ্র দুর্গ স্ট্রংরুমগুলো

আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন রাজ্যবাসীর নজর ইভিএম-এর দিকে। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে ভোটগণনা, আর তার আগে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমকে কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করেছে নির্বাচন কমিশন। ইভিএম-এর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ।
নিরাপত্তার তিন স্তর
স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রতিটি গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুমে ‘থ্রি-লেয়ার’ বা তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। স্ট্রংরুমের একেবারে দোরগোড়ায় সরাসরি পাহারায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর (CAPF) জওয়ানরা। অন্যদিকে, প্রবেশপথ এবং স্ট্রংরুম চত্বরের বাইরের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে রাজ্য পুলিশ। এই দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে কারও ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই।
সিসিটিভি-তে কড়া নজরদারি
ভোটগণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্ট্রংরুমের ভেতরে ও বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য বাইরে বড় টিভি স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পালা করে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছেন। কোনওরকম ‘সন্দেহজনক’ নড়াচড়া বা কারচুপির আশঙ্কা যাতে না থাকে, তার জন্য সব দলকে সিসিটিভি ফিড সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রার্থীদের জন্য কড়া নিয়ম
প্রার্থীরা যদি স্ট্রংরুম পরিদর্শন করতে চান, তবে তাঁদের জন্য কড়া নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভিজিটর খাতায় নাম, সময় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানদের করা তল্লাশি পেরিয়েই প্রার্থীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলছে।
ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে এবং গণনার দিন শান্তি বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার ইভিএম খোলার পর বাংলার মসনদ কার দখলে যায়, এখন তারই অপেক্ষায় প্রহর গুণছে রাজনৈতিক মহল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।