ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তে কমিশনের পাশে দিলীপ ঘোষ, নিশানায় কি ডায়মন্ড হারবার মডেল?

খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী তথা দলের প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে কেবল সমর্থনই করেননি, বরং একে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হিসেবে অভিহিত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই অঞ্চলে দীর্ঘ বছর ধরে সাধারণ মানুষ তাঁদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের প্রকৃত উৎসব পালনের জন্য ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য ছিল, যা এই পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব হতে পারে। তবে কেবল কয়েকটি বুথ নয়, স্বচ্ছতার স্বার্থে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনরায় ভোট গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এই বিজেপি নেতা।
ভোটদানের অধিকার পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সক্রিয়তা
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ফলতার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে বিরোধীরা কোণঠাসা হয়ে ছিল এবং সাধারণ ভোটাররা বুথমুখী হতে ভয় পেতেন। কমিশনের এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সেই স্থবিরতা ভাঙতে সাহায্য করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষ এই বার্তার মাধ্যমে সরাসরি শাসকদলের ভোট পরিচালনা কৌশলের ওপর আঘাত হানতে চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন যখনই কোনো এলাকায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়, তখন তা পরোক্ষভাবে আগের ভোট প্রক্রিয়ার ত্রুটি বা অনিয়মকেই সামনে নিয়ে আসে। দিলীপ ঘোষ এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে তাঁরা কোনো প্রভাবশালীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজের রায় দিতে পারেন।
ডায়মন্ড হারবার মডেল ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে এই মডেলকে উন্নয়ন ও সুশৃঙ্খল ভোট ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে দিলীপ ঘোষের মতো বিরোধী নেতারা একে ‘ভোট লুঠের তকমা’ দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন। ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে তাঁর মন্তব্য মূলত সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরই অংশ। দিলীপের দাবি, যদি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারতেন, তবে নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। এই পুনর্নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, তবে তা তথাকথিত রাজনৈতিক মডেলের অসারতা প্রমাণ করবে বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির। ফলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।