গণনায় কারচুপির আশঙ্কা, ভোট রক্ষায় এবার হেভিওয়েটদের পাহারায় বসাচ্ছে তৃণমূল!

রাত পোহালেই রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ফলাফল। তার ঠিক আগেই ইভিএম কারচুপি এবং ‘ভোটচুরি’র আশঙ্কায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং প্রতিটি ভোট রক্ষা করতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ বা গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার রেশ ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে, তৃণমূল নেত্রী নিজে সবুজ সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত কোনো গণনাকর্মী যেন টেবিল ছেড়ে না বেরোন। রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনাকেন্দ্রের ভেতর বিরোধীদের কোনো সম্ভাব্য কৌশলী চাল মোকাবিলা করতেই এই বর্ষীয়ান নেতাদের মাঠে নামানো হচ্ছে।
অভিজ্ঞদের কাঁধে নজরদারির গুরুদায়িত্ব
তৃণমূলের এই বিশেষ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন দলের একাধিক সাংসদ এবং প্রবীণ নেতৃত্ব। উত্তর ২৪ পরগনার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর দায়িত্বে থাকছেন সৌগত রায় ও পার্থ ভৌমিক। ব্যারাকপুর ও দমদমের বিশেষ পর্যবেক্ষক করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমারকে। কলকাতা উত্তরের জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মতো দাপুটে নেতাদের বেছে নেওয়া হয়েছে, আর দক্ষিণে দায়িত্বে থাকছেন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস। একইভাবে মেদিনীপুর, হুগলি ও মালদার মতো জেলাগুলোতেও জুন মালিয়া, দেব এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের অতন্দ্র প্রহরায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পর্যবেক্ষকরা মূলত দলের এজেন্টদের দিকনির্দেশনা দেবেন এবং কোনো অসঙ্গতি দেখলে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদের দায়িত্ব সামলাবেন।
আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক তৎপরতার আবহ
গণনা প্রক্রিয়ায় কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালেও সেখানে বড় কোনো স্বস্তি মেলেনি। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, কমিশন চাইলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের মাধ্যমেই গণনা সম্পন্ন করতে পারে এবং এতে কোনো নিয়মভঙ্গ হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আশঙ্কা হলো, কম্পিউটার এন্ট্রির সময় তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট বিজেপির ঝুলিতে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই প্রশাসনিক চাপের মুখেই তৃণমূল নেতৃত্ব নিজেদের কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে বলেছে। এই নজিরবিহীন নজরদারি এবং হাই-প্রোফাইল নেতাদের উপস্থিতি আগামীকাল গণনাকেন্দ্রগুলোতে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের আবহ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।