গণনার গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ শুভেন্দুর! গণনাকর্মীদের গতিবিধি নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি

গণনার গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ শুভেন্দুর! গণনাকর্মীদের গতিবিধি নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি

ভোট গণনার চূড়ান্ত মুহূর্ত ঘনিয়ে আসতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্রের হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এবার সরাসরি গণনাকর্মীদের পেশাদারিত্ব ও কাজের গোপনীয়তা নিয়ে বড়সড় অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন যে, গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে বর্তমানে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তথ্য ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, গণনার গুরুদায়িত্বে নিযুক্ত থাকা একদল সরকারি কর্মী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিক তাঁদের নির্ধারিত ডিউটি বা কাজের খুঁটিনাটি বিবরণ গোপনে তাঁদের স্থায়ী কর্মস্থল বা বিভাগীয় সংস্থাকে নিয়মিতভাবে জানাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, গণনা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য কমিশনের আওতাধীন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও কেন এই কর্মীরা নিজেদের স্থায়ী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতার মতে, এই ধরণের অনৈতিক যোগাযোগ সরাসরি গণনার নিরপেক্ষতাকে কালিমালিপ্ত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ধরণের তথ্য আদান-প্রদানের ঘটনা যদি সত্য হয়, তবে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। সরকারি আধিকারিকদের এই ধরণের পদক্ষেপ গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী অভিযোগের ফলে নির্বাচন কমিশনকে এখন প্রতিটি গণনাকর্মীর ওপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে, অন্যথায় ফল ঘোষণা পরবর্তী সময়ে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক বিবাদের পথ খুলে যেতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কমিশন অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ধরণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *